English Version

অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনৈতিক এলিট

অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনৈতিক এলিটনিউজ ডেস্ক :: অর্থনীতি ও রাজনীতি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, যেটা জননীতি প্রণয়নে হস্তক্ষেপ করছে। অধিকাংশ নীতি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্বার্থে হচ্ছে। আর রাজনৈতিক এলিট শ্রেণী অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন হলেও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন তেমন হচ্ছে না। ধনী ১ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে আয় ও সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে গেছে, যা বাকি ৯৯ শতাংশের চেয়েও বেশি।

গতকাল ছিল সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) আয়োজনে ‘পঞ্চম বার্ষিক সানেম অ্যানুয়াল ইকোনমিস্ট কনফারেন্স-২০২০’ সম্মেলনের শেষ দিন। রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন।  সম্মেলনের শেষ দিনের ‘পলিটিকাল ইকোনমি অব ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান  সোবহান। তিনি বলেন, রাজনীতি ও ব্যবসায়ী একাকার হয়ে গেছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, যিনি রাজনীতিবিদ, তিনিই আবার অর্থনীতিবিদ, তিনিই আবার বড় ব্যবসায়ী। তারাই দেশের নীতিনির্ধারক। এক ধরনের কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠী গোটা অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যে কারণে সশৃঙ্খল জননীতি প্রণয়ন সম্ভব হচ্ছে না। সবকিছু নির্ধারণ করে দিচ্ছে আমাদের এলিট শ্রেণী।

এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন রাজনৈতিক নেতারা। যে কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক দুর্বল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও ভালো না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের রাজনীতি থেকে অর্থনীতিকে আলাদা করতে হবে।

সম্মেলনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেন, আমার নিজের ব্যক্তিগত মন্তব্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের মানসম্মত সরকার প্রয়োজন। দক্ষ নেতা প্রয়োজন, সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা দরকার। আমি একদিকে যেমন উন্নয়ন দেখতে চাই, অন্যদিকে তেমন সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চাও দেখতে চাই। দেশের উন্নয়নের একটি মাত্র দল কাজ করবে, সেটা আমি চাই না। এখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।

তিনি বলেন, একটি দেশে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন দরকার আছে। একই সঙ্গে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাও দরকার আছে। তিনি আরো যোগ করেন, যদি জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে গিয়ে কিছুটা উন্নয়ন কমে আসে, তবু আমি মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা সবাই এভাবে চিন্তা করছেন বা করা উচিত এটা আমি বলব না। ভালো গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন ভালো সরকার ব্যবস্থা। চীন ও ভিয়েতনামে গণতন্ত্র না থাকলেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। যে কারণে আমি কখনই গণতন্ত্রকে উন্নয়নের উপকরণ হিসেবে দেখি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, ব্যবসায়ী এলিট ও রাজনৈতিক এলিটের মধ্যে ভারসাম্য নেই। যে কারণে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বাড়লেও প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। বিজনেস এলিট ও রাজনৈতিক এলিট চিহ্নিত করা এখন অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশের এমন অনেক ব্যবসায়ী পাওয়া যাবে। তারা যখন ব্যবসা করছেন, তখন তারা ব্যবসায়ী। তারা যখন সংসদে যাচ্ছেন, তখন তারা সংসদ সদস্য। তারাই আইন প্রণয়ন করছেন। এখন আবার নতুন রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন আমলারা।

সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার ২৬ জন গবেষক তাদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন। এবার সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠান’।

 

সর্বশেষ সংবাদ