English Version

ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি

নিউজ ডেস্ক::ঢাকা নিয়ে মহাপরিকল্পনা আ’লীগের দুই প্রার্থীরবিএনপি আচরণবিধি মানছে না -আতিকুল * দুর্নীতি বরদাশত করব না -তাপস

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণকে একটি আধুনিক সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী। সোমবার দুই সিটির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারকালে ভোটারদের কাছে তারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

ভোটারদের সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। বাংলাদেশে উন্নয়নের মার্কা একটা আর তা হল নৌকা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

আমাকে যদি আপনারা নির্বাচিত করেন তাহলে সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। মাদকমুক্ত ঢাকা গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমরা মাদকমুক্ত ঢাকা গড়তে চাই। যদি নির্বাচিত হই তবে অবশ্যই ঢাকাকে জলজট, যানজট, মাদকমুক্ত করব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, উন্নত ঢাকা গড়তে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছি আমরা। ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা করে আমরা উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব। সেখানে প্রত্যেকটি রাস্তাঘাটের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় থাকবে। গুরুত্ব পাবে পয়ঃনিষ্কাশনের বিষয়গুলোও। সব নাগরিকের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে।

আতিকুলের প্রচার : রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় ভোটারদের কাছে আতিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনী আচরণবিধি মানছে না। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার চালাচ্ছি কিন্তু বিএনপি প্রার্থী তা মানছেন না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করি- যার যার ভোট সে দেবে, যাকে খুশি তাকে দেবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনোদিন কাউকে বাধা দেইনি, তারা মিথ্যা কথা বলছে। একটু আগে আমি আসার সময় দেখলাম বিএনপির একটি মিছিল গান বাজাতে বাজাতে যাচ্ছে। আমি চাইলে তাদের দাঁড় করাতে পারতাম কিন্তু আমি স্বাগত জানিয়েছি। গান বাজিয়ে যাওয়ার সময় আমি ভিডিও করে নিয়ে এসেছি। সুতরাং তারা নিজেরা বিশৃঙ্খলা করে দোষ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে ৯ মাসের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলাম উল্লেখ করে এ মেয়র প্রার্থী বলেন, এবার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হচ্ছে। দায়িত্বকালে যে সময় পেয়েছি, সেই সময়ের মধ্যে অবশ্যই ঢাকাকে যেভাবে সাজানোর কথা, সেভাবে সাজাতে পারিনি। কিন্তু কিভাবে ঢাকা সাজবে, কিভাবে জলজট-যানজট দূর হবে, কিভাবে আমরা মানবিক ঢাকা গড়তে পারব, কিভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে, নারী ও শিশুবান্ধব ঢাকা কিভাবে করা যায় সেই পরিকল্পনা করে ফেলেছি।

খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী বলেন, মাঠ কারও নিজস্ব নয়, মাঠ আমাদের সবার জন্য হবে। আমাদের দরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘর থেকে বের করে মাঠে নিয়ে আসার। যেখানে যত মাঠ আছে, তা দখলমুক্ত করব। এ সময় তিনি নগরপিতা না, নগর সেবক হয়ে থাকতে চান বলেও জানান।

এর আগে, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। উন্নয়নের মার্কা নৌকা, নৌকা, ৩০ জানুয়ারি শুভদিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন স্লোগানে মুখরিত হয়ে হয়ে গণসংযোগ এলাকা। সেখান থেকে মাটির মসজিদের সামনে থেকে আবুল হোটেল, রামপুরা, বাড্ডা এলাকার আলাতুন্নেসা মাদ্রাসা হয়ে মধ্যবাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালান আতিকুল ইসলাম।

নির্বাচনী গণসংযোগকালে আতিকুল ইসলাম একটি চায়ের দোকানে গিয়ে নিজ হাতে চা বানিয়ে উপস্থিত সবাইকে পরিবেশন করেন। বিষয়টি সবার কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তার এ সাদামাটা আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করেন।

চা দোকানদার ইয়াসিন আলী জানান, উনার মতো একজন সম্মানিত মানুষ আমার দোকানে বসে চা বানিয়েছেন। সেটি আমার জন্য গর্বের। আট কাপ চায়ের দাম উনি আটশ’ টাকা দিয়ে গেছেন। গণসংযোগকালে আতিকুলের সঙ্গে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজ বেলা ১১টায় আতিকুল ইসলাম নির্বাচনী আসন ১৩-এর ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩২নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভা করবেন। আগারগাঁও তালতলা শতদল কমপ্লেক্স থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন তিনি। এরপর সেখান থেকে শুরু করে শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, তাজমহল রোড, লালমাটিয়া শেষে রিং রোডে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন আতিক। এরপর বেলা ৩টায় বনানী নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা লীগের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। গণসংযোগ ও পথসভায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

ব্যারিস্টার তাপস : রাজধানীর মানিকনগর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সকালে প্রচারণায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সুশাসিত ঢাকার আওতায় সব নাগরিকের মৌলিক সুবিধা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব। দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই ঢাকাবাসীর জন্য কাজ করব। সিটিতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করব না।

তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নত ঢাকা গড়তে নব সূচনার উন্মেষ হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকার মধ্যে সব সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করবে। ঢাকার কোনো স্থানে কাজ হলে ৩ বছরের মধ্যে অন্য সংস্থাকে কাজ করতে দেয়া হবে না।

নৌকার প্রার্থী বলেন, ঢাকাবাসী ৩০ তারিখ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নত ঢাকা গড়ার সুযোগ দেবেন। তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে আমি আশা করছি। মানিকনগর বাস স্ট্যান্ডে পথসভা শেষ করে তাপস মুগদা, খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকায় জনসংযোগে যোগ দিয়ে নাগরিকদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান।

এদিন তাপস দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানিকনগর বিশ্বরোড থেকে মানিকনগর মডেল স্কুল, হায়দার আলী হাই স্কুলসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

এরপর সবুজবাগ থানার আহমাদবাগ, রাজারবাগ কালীবাড়ি, কুসুমবাগ, দক্ষিণগাঁও নূর মসজিদ কলোনি, মোহাজের কলোনি, বটতলা, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চান তিনি।

এদিন খিলগাঁও থানার খিলগাঁও ফ্লাইওভার, বিশ্বরোড, জোড়পুকুর মাঠ, খিলগাঁও চৌরাস্তা, সবুজমতি ভবন, আনসার কোয়ার্টার, খিলগাঁও উচ্চবিদ্যালয়, তালতলা মার্কেট, কুমিল্লা হোটেল, তিলপাপাড়া মসজিদ, শান্তিপুর হাইস্কুল, গোড়ান টেম্পো স্ট্যান্ড, সিপাহীবাগ টেম্পো স্ট্যান্ড, নাসিরাবাদ ত্রিমোহনী ব্রিজ এলাকায় গণসংযোগ করেন ব্যারিস্টার তাপস।

এসব প্রচারণায় শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় কাজ করার পর অন্তত ৩ বছর অন্য কোনো সংস্থাকে সেই এলাকায় কাজ করতে দেয়া হবে না। এটা বাস্তবায়ন হলে যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, সেই দুর্ভোগ থেকে ঢাকাবাসী পরিত্রাণ পাবেন।

ঢাকা গড়তে নেয়া পরিকল্পনা নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে বলে দাবি করে তাপস বলেন, গণসংযোগে ঢাকাবাসীর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঢাকাবাসী সাদরে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

তাপস বলেন, আমি মনে করি, একটি নবসূচনা রচিত হচ্ছে উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে। আমরা আগামী ৫ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারলে ঢাকাবাসীর সেবক হিসেবে ঢাকাকে উন্নত ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলব।

এ সময় তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল বাতেন বাচ্চু এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী মাকসুদাকে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রচারণাকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা বিএনপির প্রার্থীদের

অবাধ হলে জয় নিশ্চিত -তাবিথ * জনসংখ্যা অনুপাতে প্রতি ওয়ার্ডে গণশৌচাগার-ইশরাক

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা- তা নিয়ে ফের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। সোমবার প্রচারের চতুর্থ দিনের গণসংযোগকালে দলটির উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেন এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা প্রায় একই সুরে বলেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এবং সুষ্ঠু না হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন নিজেই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত।

পাশাপাশি যানজট সমস্যা নিরসন, প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা অনুপাতে পাবলিক টয়লেট স্থাপন, সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনার কথা জানান বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী।

জয় নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারির ভোট যাতে আগের রাতে নিতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তাবিথ আউয়াল। আর ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম করতে চাই। কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি হামলা চালায়, তা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। কোন হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের নত করতে পারবে না।

তাবিথ আউয়াল : নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে।

আমরা সবাইকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করব। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আবারও শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যেটা দেখে জনগণ আশ্বস্ত হবেন যে তারা নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পারবেন। সোমবার গণসংযোগকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তাবিথ বলেন, এবার আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে যেন, কোনো ভোট ৩০ তারিখের (জানুয়ারি) এক মুহূর্তও আগে দেয়া না হয়। ২৯ তারিখ রাতে যেন কোনো ভোট না পড়ে।

জনগণকে নিয়ে ভোটের দিন যথাযথভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, যাতে কোনো চোরা ভোট এবার না পড়ে। জনগণ নিজের ভোট নিজে দেবে, জনশক্তিতে আমরা বিজয়ী হব। আমাদের এজেন্টরা অবশ্যই এবার কেন্দ্রে যাবেন।

তবে তাদের যদি ধাক্কা মেরে বের করে দেয়া হয় বা আগের দিন রাতে নির্বাচন কমিশন এজেন্টদের তালিকা ফাঁস করে পুলিশের মামলা বা হামলা জড়িয়ে দেয়, তো কী করা যাবে। আশা করব, নির্বাচন কমিশন যেন এবার তা না করে।

তিনি বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নানা রকম হুমকি দেয়া হচ্ছে, কাউন্সিলর প্রার্থীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেক প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, মাইক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে পোস্টার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাবিথ।

সেখান থেকে বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারের উত্তর পাশ হয়ে তেজকুনিপাড়া, রেলওয়ে মার্কেট, বিজ্ঞান কলেজ ও গির্জার পাশ হয়ে কারওয়ান বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন।

এ সময় তাবিথ আউয়ালকে ঘিরে শত শত নেতাকর্মী খালেদা জিয়া ও ধানের শীষের স্লোগান দেন। কারওয়ান বাজারের চারপাশ ঘুরে তিনি তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে যান। সেখানে তিনি শ্রমিকদের কাছে ভোট চান।

বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা, ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এবং সরকার ও সব সরকারি সংস্থাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার আন্দোলন করছি। এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আপনারা অবশ্যই আমাকে এবং ধানের শীষের সব প্রার্থীকে ৩০ জানুয়ারি জয়যুক্ত করবেন।

গণসংযোগকালে তাবিথের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আমিনুল হক, কামরুজ্জামান রতন, নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী আজিজুর রহমান মোসাব্বির প্রমুখ।

তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে সাতরাস্তা বেগুনবাড়ি, নাবিস্কো, নাখালপাড়া, নিকেতনসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তাবিথ। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। আজ সকাল ১০টায় উত্তর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন তাবিথ আউয়াল। এরপর ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন তিনি।

ইশরাক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এবার হামলা হলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

প্রতিপক্ষের সব হামলা মোকাবেলা করতে ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের সিনিয়র নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ নির্বাচনেও এ ধরনের হামলা হচ্ছে। তবে আমরা এবার প্রতিপক্ষের সব হামলা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি।

জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে ইশরাক হোসেন তার গোপীবাগের বাসায় যান। সেখান থেকে চতুর্থ দিনের মতো গণসংযোগে নামার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফিল্ড একটা তৈরি হয়েছে, সেটা ভোট ডাকাতির, ভোট কারচুপির।প্রতিপক্ষকে দমন করার একটা ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিনা, জানি না।

প্রচারে নেমে মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন দাবি করে ইশরাক বলেন, যে এলাকায় যাচ্ছি, সেখানের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ইশরাক বলেন, আমার জন্ম ঢাকায়। এ নগরীর প্রতিটি গলি আমার চেনা। যেখানে যাচ্ছি, স্থানীয় লোকজন এসে অংশ নিচ্ছেন, কথা বলছেন, কুশল বিনিময় করছেন।

মেয়র নির্বাচিত হলে ৩ মাসের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা এবং ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন ইশরাক। গণসংযোগে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরে ইশরাক নেতাকর্মী নিয়ে টিকাটুলির অভয়দাস লেনের সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে প্রচারকালে রাস্তার দু’পাশ, বাসা ও দোকান থেকে নারী, পুরুষ হাত নেড়ে বিএনপি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান।

জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট চান তিনি। পরে দুপুরে বংশালে যুবদলের কার্যালয়ে এক কর্মিসভায় অংশ নিয়ে ইশরাক বলেন, ঢাকার নির্বাচন শুধু নির্বাচনই নয়, এটা গণতন্ত্রের লড়াই, দেশনেত্রীর মুক্তির লড়াই। এ লড়াইয়ে মনোবল অটুট রেখে নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। পরে বংশাল থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন তিনি।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ইশরাক হোসেন সবুজবাগ থানার ৭৫নং ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী বাজার থেকে পঞ্চম দিনের মতো প্রচার শুরু করবেন। পরে খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার ৩, ৪, ৫, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করবেন।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ