English Version

কেনিয়ায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে কঙ্গপালের আক্রমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::পঙ্গপাল বা ঘাসফড়িং এর আক্রমণে কেনিয়ায় ৮০ হাজার হেক্টর ফসল ধ্বংস হয়েছে।২৮ জানুয়ারি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘাসফড়িং ফসলি জমির ফসলের ওপর আক্রমণ শুরু করে যা ধীরে ধীরে গোটা দেশের উওর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

ডিসেম্বর পার হয়ে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কেনিয়ার উওর অঞ্চলের ফসলি জমি বর্তমানে চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার কেনিয়ার কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মরুভূমির পঙ্গপালগুলি ইথিওপিয়া এবং সোমালিয়া থেকে পূর্ব ও উত্তর কেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার কারণে খাদ্য উৎপাদন এবং ফসলী জমির উৎপাদিত ফসল হুমকির মুখে পড়েছে,সরকারিভাবে কীটনাশক ছিটিয়েও এসব পঙ্গপালগুলিকে দমন করা যাচ্ছেনা।

আক্রান্ত স্হানে ইতিমধ্যে হেলিকপ্টার দিয়ে কীটনাশক ছিটানো হলেও এদের আক্রমণ থামছেনা। কীটনাশক ছিটানোর পর থেকে পঙ্গপালগুলি উওর দক্ষিণ ও পশ্চিমে অঞ্চলের গরিসা, ইসিওলো এবং সাম্বুর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ফসলী জমির ওপর পঙ্গপালগুলি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে দেশে খাদ্য সুরক্ষা এবং জীবিকার পক্ষে অভূতপূর্ব হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানুয়ারির প্রথম সাপ্তাহে আপডেটে বলেছে যে, সোমালিয়ায় পঙ্গপালের ঝাঁকগুলি এই মাসে সেখানে পরিপক্ক ও বংশবৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে,তখন কেনিয়ার জন্য আরও ঝুঁকি বাড়বে।

এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে কেনিয়ার প্রতিবেশী উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান। এফএও আরও জানিয়েছিল যে, পঙ্গপাল ইতিমধ্যে সোমালিয়া এবং ইথিওপিয়ায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস করেছে এবং যা ৭০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পঙ্গপাল আক্রমণ।

যা উভয় দেশের জন্য খাদ্য সংকটের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অনাবৃষ্টির পর দ্রুত ফসলের বর্ধন হলে পঙ্গপালের মস্তিষ্কে থাকা সেরোটোনিন তাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তনের সূত্রপাত করে। ফলে তারা প্রচুর পরিমাণে ও দ্রুত জন্মদান শুরু করে। তখন তারা একত্রে থাকে, যখন তাদের সংখ্যা বেশি হয় তারা যাযাবর হয়ে পড়ে। এতে থাকে পাখাবিহীন ছোট পঙ্গপাল যেটা পরে পাখা জন্মে দলে যোগ দেয়। এই পাখাবিহীন এবং পাখনাসহ পঙ্গপালের দল একসঙ্গে চলাচল করে এবং দ্রুত ফসলের মাঠের ক্ষতি করে। পূর্নবয়স্ক পঙ্গপাল শক্তিশালী উড্ডুক্কু তারা অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে পারে আর পথে যেখানেই থামে সেখান থেকে ফসল খেয়ে শক্তি অর্জন করে।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ