English Version

রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ফের উচ্চ আদালতে যাবেন মিন্নির বাবা

নিউজ ডেস্ক ::বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আদালতের গঠন করা অভিযোগ (চার্জ) থেকে মিন্নিকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ফের উচ্চ আদালতে যাবেন তার বাবা।  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, শুরু থেকেই রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বহুল আলোচিত এই মামলার প্রধান এবং একমাত্র প্রতক্ষদর্শী সাক্ষী থেকে মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে। এরপর মিন্নিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আদালতও মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।

তিনি আরো বলেন, মিন্নি কোনো দোষ করেনি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। মিন্নিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে যাতে আদালত অভিযোগ গঠন করে এজন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আমরা আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে মিন্নির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মিন্নিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতের যাব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার আদালতের মিন্নির আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, এ মামলা থেকে মিন্নিকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য অভিযোগ গঠনের শুনানিতে মিন্নিকে নিদোর্ষ দাবি করে আদালতে অনেক যুক্তি উপস্থাপন করেছি। কিন্তু আদালত তারপরও মিন্নিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেননি। তাই মিন্নির বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের দারস্থ হবেন।

গত বুধবার রিফাত হত্যা মামলার প্রপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এসব অভিযুক্তদের মধ্যে রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯), মো. মুসা (২২), আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির (১৯) বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে।

আর রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০) এবং কামরুল ইসলাম সাইমুনের (২১) বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ২১২ এবং ১২০ এর (বি) এর ১ ধারা অভিযোগ গঠন করা হয়ছে। এ ছাড়াও এই মামলার আসামি মো. সাগরের (১৯) বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে গত ৬ নভেম্বর রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনসহ বিচারের জন্য প্রস্তুত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

গত ২৬ জুন বরগুনার সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; এ দু ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। আর অন্য সব আসামি কারাগারে রয়েছেন।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ