English Version

সুনামগঞ্জে ডিসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেন আইনজীবীরা

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা :

সুনামগঞ্জে নির্মাণাধীন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবনের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির দাবি, নির্মাণাধীন নতুন ভবনের রাস্তায় একটি গোদাম নির্মাণ করছে জেলা প্রশাসন। রাস্তা যাতে নির্মাণ না করা যায়, এ কারণে রাস্তার উপরে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, এটি গোদাম নয়, এখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আদালত ভবনের রাস্তা নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন আইনজীবী সমিতি। তবে জেলা প্রশাসকের দাবি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা জমি দিয়েছি। ২০১২ সালে এখানে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। নির্মাণাধীন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবনের নিজস্ব রাস্তা রয়েছে।
আইনজীবী সমিতির বিক্ষোভ শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’র ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও গণপূর্তের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র যুগ্ম জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করে জেলা আইনজীবী সমিতি। মামলায় উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসনের ভবনের পূর্বপাশে নির্মানাধীন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবনের সামনে রাস্তা বন্ধ করে নতুন একটি গোডাউন নির্মাণ করছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক। এর ফলে নতুন নির্মানাধীন চীফ জুডিশিয়াল ভবনের যেতে আইনজীবীসহ বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হবে। জেলা প্রশাসক গনপূর্ত বিভাগের জায়গায় তাদের অনুমতি ছাড়াই উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে গোডাউন নির্মাণর উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। মামলায় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আবেদন করেন আইনজীবীরা। অন্যথায় তারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান। আদালতে মামলা দায়েরের পর আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক আদালত ভবনের রাস্তায় ভবন নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তাই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্রের ভবন নির্মাণে স্থিতাবস্থা রাখার আদেশ জারি করেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ২০১২ সাল থেকে এই কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এরপরও আমরা এ জায়গা নিয়ে কোন জটিলতা আছে কিনা জানতে চেয়ে গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। এনিয়ে গত বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনজীবী সমিতির সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই আইনজীবীরা এ কর্মসুচি পালন করেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ