English Version

কেমন আছো বাবা?

আশরাফ আলী: বাবা তুমি কেমন আছো, ছোট্ট মাটির ঘরে? তোমার কথা হৃদয় মাঝে পড়ছে বারে বারে। শেখ নজরুল ইসলামের লেখাটি বার বার মনের অজান্তে মুখে উচ্ছারণ হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু চলে যায়। রয়ে যায় শুধু স্মৃতিটুকু। বাবা তোমার কথা আর রেখে যাওয়া স্মৃতি বার বার মনে পড়ছে।

বাবা ৩ বছর হলো তুমি আমাদের মাঝে নেই। তোমার সময়গুলো কেমন কাটছে ছোট্ট মাটির ঘরে। খুব জানতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু বলো? কিভাবে তোমার সাথে কথা বলি। জানো বাবা তোমায় আমি খুব মিস করছি। কতই না কষ্ট হচ্ছে তোমার জন্য। আচ্ছা বাবা তোমার কি জানতে ইচ্ছে করে না আমার দিনগুলো কিভাবে কাটছে? আমার মনের অব্যক্ত কথাগুলো কিভাবে তোমার কাছে বলি।
আমার প্রিয় বাবা মো: মখলিছ উর রহমান। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। আমরা ৬ ভাই ৩ বোনকে এতিম করে বাবা এ পৃথিবীর মায়ার বন্ধন ছেড়ে চিরদিনের জন্য ফিরে যান না ফেরার দেশে।
জানো বাবা কয়েকদিন আগে তোমাকে দেখেছিলাম ঘুমের মধ্যে। ঘুমের মধ্যে দেখা সে স্মৃতি একটু আনমনা হলে চোখের মধ্যে ভেসে উঠে। ভালো করে সকল বিষয় মনের মধ্যে না থাকলেও সেই সময় কি দেখেছি কাউকে আমি বলিনি। মনের আয়নায় সে স্মৃতিটুকু রেখে দিয়েছি।

বাবা তুমি চেয়েছিলে তোমার ছেলে অনেক বড় হবে। তুমি গর্ব করে বলতে পারবে আমার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হয়েছে। কত বড় হতে পেরেছি জানিনা। এটুকু বলতে পারি তোমার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হবার জন্য চেষ্টা করছে। জীবিত থাকতে তুমি কত কষ্ট করেছ। আমি তোমাকে কিছু দিতে পারিনি। কিছু দিতে না পারার কষ্ট মনের মধ্যে জমে উঠে। তুমি চেষ্টার কোন ত্রুটি করনি। আমরা পারিনি সেভাবে তৈরী হতে, তুমি যেভাবে চেয়েছিলে।
বাবা তুমি যখন না ফেরার দেশে চলে গেলে, তখন থেকে বুঝতে পেরেছি তুমি কোন জিনিষ। তোমাকে যেদিন সাদা কাফনের কাপড় পড়িয়ে কবরে রেখে আসছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আমার জীবনের সব কিছু ফেলে রেখে চলে যাচ্ছি। ইচ্ছে ছিলো কবরে তোমার সাথে কতক্ষণ থাকি। তখন তোমার জন্য খুব কষ্ট হয়েছিল বাবা। তোমাকে কবরে একা রেখে আমরা স্বার্থপরের মতো চলে আসছি। বুকে কষ্ট চাপা রেখে চলে এসেছিলাম তোমার কবর প্রান থেকে।
গত ১৪ নভেম্বর বাবা তোমার মৃত্যুর ৩ বছর পূর্ণ হলো। বাবা ঐ দিনে তোমার কবর জিয়ারতে যাইনি। তবে বাবা আমি যখনই দোয়া করতে বসি তখন তোমার জন্য দোয়া করি। তোমাকে স্মরণ রেখে বলি রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী ছগীরা। এই দোয়া বাবা তোমার জন্য সব সময় করি। আল্লাহ তোমাকে যেন কবর প্রানে কষ্টে না রাখেন সেই কামনাই করি।
মৃত্যুর আগের সময়ের কথাগুলো খুব মনে পড়ে বাবা। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে যখন আমি বাড়ি গিয়েছিলাম নেবুলাইজার মেশিন নিয়ে। মেশিনটি দিয়ে পরদিন যখন বাড়ি থেকে আসতে চাইলাম পরীক্ষা দেবো বলে। তখন তুমি আমাকে মাথায় হাত দিয়ে আদর করে বলেছিলে আমার জন্য দোয়া করিও। আমাকে আর জীবিত না পেতেও পারো। সেদিন তোমার কথা শুনে সান্তনা ছাড়া আর কিছু দিতে পারিনি। সেই দিনের কথাগুলো মনে হলে মনের অজান্তে চোখে পানি চলে আসে। আসলেই তুমি চলে গিয়েছিলে না ফেরার দেশে। বাবা তোমাকে ছাড়া কোন শান্তি পাব না মনে হয়। বিশ্বাস করো বাবা, সেদিনই হয়তো শান্তি পাবো, যেদিন তোমার মতো ছোট্ট মাটির ঘরে বসে আমি বলতে পারবো, কেমন আছো বাবা?

 

সর্বশেষ সংবাদ