English Version

নবীগঞ্জে দুই সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা

বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে সরকার বাহাদুরের গোচর ভূমি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মৃত্যুবরণ করলে যে জায়গায় দাহ করা হয়। সেই জায়গাটি এক শ্রেনীর ভূমিখেকোরা অবৈধ ভাবে জোর পূর্বক দখল করে ঘর নির্মান সহ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য খুটি বসেয়ে লাইন টানায় এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মিলে তাদেরকে নিষেধ দিলেও এতে প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা কোন কর্ণপাাত না করে জোরপূর্বকই এ গোছর ভূমি দখল করে ঘর নির্মান করছে। এ নিয়ে ভূমিখেকো ও দুই সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার সস্থিপুর মৌজার ২৩ নং জেএল এর ১ নাম্বার খতিয়ানের ৩৯২৯ ও ৩৯৩০ দাগটি সরকার বাহাদুরের গোচর রকম ভূমি রয়েছে। এ ভূমির উপর কু-নজর পড়ে ঐ এলাকার এক শ্রেনীর প্রভাবশালী ভূমিখেকো লোকজনের। বিগত ৫বছর পূর্বে এই জায়গা দখল করার পায়তারা করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন তা উচ্ছেদ করে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু বর্তমানে আইনের তোয়াক্কা না করে এই গোচর ভূমি আবারো প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা দখল করায় গত ২২.১০.২০১৯ তারিখে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর করে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নবীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সহ পল্লিবিদ্যুৎতের ডিজিএম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ খবর পেয়ে ভূমিখেকোরা বেপরোয়া হয়ে গ্রামের হিন্দু মুসলিমদের নানান ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের মৃত জবান উল্লার পুত্র আব্দুর রহমান বাহিনীর লোকজন ও বহরমপুর গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে।
এলাকাবাসী জানান, এর পূর্বেও এই ভূমি খেকোরা আরো দুই বার দখল করার চেষ্টা করলে আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করি। এবং তাদেরকে নোর্টিশ করার পরও তারা কোন জবাব না দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে অবৈধভাবে দখল ও ঘর নির্মান করে পল্লি বিদ্যুৎদের খুটি বসিয়ে লাইট টানতে থাকে। এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদেরকে নিষেধ নিলে উল্টো এই প্রভাবশালীরা গ্রামবাসীকে নানা ভাবে প্রাণে হত্যার হুমকি ধামকি দিয়ে দেয়। এতে শান্তি প্রিয় এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর করে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নবীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সহ পল্লিবিদ্যুৎতের ডিজিএম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের খবর পেয়ে এলাকায় প্রভাবশালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রাণে হত্যার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে আরো জানাযায়, সরকার বাহাদুরের এই পতিত রকম গোচর ভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের গরু- ছাগল ছাড়াতেন। এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মৃত্যু বরণ করলে সেখানে দাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ভূমিখেকোদের দখলের কারণে গরু- ছাগল ছড়ানো সহ এলাকার লোকজন চলাচলে নানা বিগ্নতা দেখা দিয়েছে। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মুত্যু বরণ করলে দাহ করার মতো আর কোন জায়গা না থাকায় তাদেও মধ্যেও চমর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এই প্রভাবশালীরা এলাকার মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় প্রকাশ্যে তাদের বিরোদ্ধে কেউ মূখ খোলার সাহস রাখতে পারছেন না।
এ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংখা করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ঔ এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

সর্বশেষ সংবাদ