English Version

ঝাড়ুদারের বেতন মেরে খাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক!

নিউজ ডেস্ক:: অসুস্থ ঝাড়ুদারের হাতের টিপসই নিয়ে পুরো চেকবই নিজের কাছে রেখে মাসের পর মাস তার বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রতাপের স্ত্রী পুতুল রানীর অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে বেতন তুলে নিচ্ছেন উৎপল কান্তি সরকার। শুধু বেতন নয়, তিনি উৎসব ভাতার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন। চেকবই একমাস উৎপল কান্তির কাছে ছিল বলে দাবি করে বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম কোণে এক জায়গায় ঘর করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শ্রী প্রতাপ। প্রায় দুই বছর ধরে অসুস্থ তিনি। প্যারালাইজড হওয়ার কারণে তিনি স্পষ্ট করে কথা বলতেও পারেন না।

প্রতাপ স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারায় প্রতাপের স্ত্রী পুতুল রানী বলেন, প্রতাপ নিয়মিত কাজ করতে না পারায় তার ছোট বোন বকুল বিদ্যালয় পরিচ্ছন্নতার কাজ করে; মাঝে মাঝে প্রতাপের ছেলে ও ছেলের বৌ প্রতাপের পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু মাস শেষে প্রতাপের বেতন তুলে নেন প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার। বিনিময়ে প্রতাপের বোনকে মাসে দুই হাজার টাকা দেওয়া হলেও প্রতাপ বা ছেলে ও ছেলের বৌকে কোনও টাকা দেওয়া হয় না। প্রায় দেড় বছর ধরে এমনটাই করছেন প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্কুলের জায়গায় থাকি। স্কুল থেকে বিদ্যুতের তার টেনে আমরা ঘরে আলো জ্বালাই। আমার স্বামী অসুস্থ, কথা বলতেও পারে না। অফিসের দরকারের কথা বলে হেড স্যার আমার স্বামীর টিপসইসহ চেকবই জমা নিয়েছেন। দেড় বছর থেকে আমাদের কোনও বেতন দেন না। এর মধ্যে একবার বেতন ৪৫ হাজার টাকা তুলে আমাদের মাত্র ১৫ হাজার টাকা হাতে দিয়েছেন। বাকি টাকা কারেন্ট বিলের জন্য কেটে নিয়েছেন। গেল ঈদে সবার সঙ্গে আমাদের বেতন-বোনাস হলেও হেড স্যার কোনও টাকা দেন নাই। দেড় বছরে শুধু গত মাসে (আগস্ট) নিজেদের বেতন তুলতে পারছি। এতদিন আমাদের কোনও বেতন দেওয়া হয় নাই।

প্রতাপের টিপসই করা চেকবই বারবার ফেরত চেয়েও না পেয়ে শেষে লিখিত আবেদন করলে গত সপ্তাহে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার তা ফেরত দেন বলে অভিযোগ করেন পুতুল রানী।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, ‘প্রতাপ অসুস্থ হয়ে যখন স্বাক্ষর করতে পারেনি, তখন তার বেতন বন্ধ ছিল। পরে তার বেতন নিয়মিত হলে তার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে তার চেকবই একমাস জমা ছিল। পরে তার স্ত্রী দরখাস্ত করে সেটা ফেরত নিয়েছে।’ তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রতাপের বেতন না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রতাপ কাজ করতে না পারায় তার বোন বকুল কাজ করে। আমি বলেছি, তার বেতন থেকে মাসে চার হাজার টাকা বকুলকে দিতে। বাকি টাকা সে নিজে নেয়।

তবে প্রতাপের ছোট বোন বকুল জানান, মাস শেষে প্রধান শিক্ষক তাকে দুই হাজার টাকা দিলেও একহাজার টাকা কেটে নেন বিদ্যুৎ বিলের নাম করে। অথচ তারা বাড়িতে লাইট জ্বালানো ছাড়া বিদ্যুতের আর কোনও ব্যবহার করেন না।

বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে অন্যদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, এটা নিয়ম নয়, তবে স্কুলের স্টাফ হিসেবে তাদের এই সুবিধা দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ বিলের সিংহভাগ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন থেকে কেটে নেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘তারা সেটা নিয়মিত দেয় না।’

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নব-নির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম চাঁদ জানান, প্রতাপের পরিবার আমাকে এমন অভিযোগ তিনি দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষককে বলে চেকবই ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, বাকি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ