English Version

সাতক্ষীরার সুতপা মণ্ডলের গান ভাইরাল, প্রশংসায় শিল্পীরা (ভিডিও)

বিনোদন ডেস্ক:: ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশি ক্ষুদে প্রতিভার গান। তার কণ্ঠে উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের কালজয়ী গান ‘যারে যারে উড়ে যারে পাখি’ এখন নেট দুনিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তার গান শুনে উচ্ছ্বসিত দেশের সংগীতাঙ্গনের অনেকেই।

এই শিল্পীর নাম সুতপা মণ্ডল। তার বাবা মৃনাল কান্তি মণ্ডল ও মা সুমনা মণ্ডল। তারা থাকেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা গ্রামে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুতপা পড়াশোনা করছে কোদান্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

সুতপার বাবা মৃনাল কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘গানের প্রতি সুতপার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। ওই সময় মোবাইলে গান ছেড়ে কণ্ঠ মেলাতো সুতপা। গানের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে ক্লাস ওয়ানে ওকে গান শেখানো শুরু করি। স্থানীয় গানের শিক্ষক মান্নান স্যারের কাছে ওর গান শেখা। আমি নিজেও এক সময় গান গাইতাম। কিন্তু নানা কারণে এখন আর গানে সময় দেওয়া হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘১০-১২ দিন আগে সুতপার শ্রেণির শিক্ষক রঞ্জন সরকার ওর একটি গান রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এরপর ওর কণ্ঠ সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ফোন করে ওর গান ও কণ্ঠের প্রশংসা করছে। ওর গানের এমন প্রশংসা পেয়ে, কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। মেয়ের গান-বাজনাটা চালিয়ে যেতে চাই।’

সুতপাকে আন্তজাতিক পর্যায়ে শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চান তার বাবা মৃনাল কান্তি মণ্ডল। সুতপা নিজেও স্বপ্ন দেখে, গান দিয়ে বিশ্ব জয় করার।

এদিকে, লতা মঙ্গেশকরের ‘যারে যারে উড়ে যারে পাখি’ গানটির পর সুতপা কণ্ঠ দিয়েছে আরও কিছু গান। এ তালিকায় আছে ‘মধু মালতি ডাকে আয় ফুল ফাগুনে’, ‘আকাশের অস্তরাগে আমারই স্বপ্ন জাগে’, ‘সাত ভাই চম্পা’সহ বেশি কিছু গান, যা একইভাবে ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়।

সুতপার সুমধুর কণ্ঠের এই গানগুলো দেশীয় সংগীতাঙ্গনের শিল্পীদেরও হৃদয় কেড়েছে। তার গান ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী লিখেছেন, ‘মাশাল্লাহ’।

চিত্রনায়ক ওমর সানী লিখেছেন, ‘অবাক হয়ে গেলাম বিস্ময় আমাদের বাঙালিজাতি এই মেয়েকে নিয়ে গর্ব করতে পারি আমরা। উঠে আসো আমার বাচ্চা, উঠে আসো।’

লুৎফর হাসান লিখেছেন, ‘সবাই নিজের লাইক বাড়াতে মেয়েটার ভিডিও আপলোড নিয়ে ব্যস্ত। কেউ তাকে সৎ পথে সঠিক পন্থায় ভালো কাজের সন্ধান দিতে পারে না। এমন আগুন এক গলা নিয়ে চোখেমুখে কী শীতল সারল্য নিয়ে গেয়ে যাচ্ছে প্রিয় সুতপা মণ্ডল।’

ভাইরাল সাতক্ষীরার ‘ক্ষুদে শিল্পী’র গান

ভাইরাল সাতক্ষীরার ‘ক্ষুদে শিল্পী’র গানসবাই যখন ভারতের রেলস্টেশনে গান গেয়ে সেলিব্রেটিতে পরিণত রানু মণ্ডলের প্রশংসায় ব্যস্ত তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশি এক খুদে প্রতিভার গান।শুক্রবার সাতক্ষীরা দর্পণ নামে একটি ফেসবুকে পেজে একটি ভিডিও পোস্ট হয়। যেখানে দেখা গেছে, কোনো এক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কাগজে লিরিক লিখে নিয়ে দাঁড়িয়ে গান গাইছে এক কিশোরী।উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী লতা মুঙ্গেশকারের কালজয়ী ‘যারে যারে উড়ে যারে পাখি ফুরালো প্রাণের মেলা শেষ হয়ে এলো বেলা আর কেন মিছে তোরে বেঁধে রাখি’ গানটি হৃদয় দিয়ে গাইছে সে। এতটুকুও ভুল নেই সুরে। যেখানে যেভাবে সুর ঢেলে দিতে হবে ঠিক সেভাবেই গাইছে ওই স্কুলছাত্রী।ভিডিওটি পোস্টের পর ওই শিক্ষার্থীর প্রশংসায় মেতেছে নেট দুনিয়া। হু হু করে ভাইরাল হচ্ছে তার গান। তার গানে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই তাকে বাংলাদেশের সঙ্গীতভূবনের এক নতুন আবিস্কার বলে মন্তব্য করেছেন।জানা গেছে, ভিডিওর ওই খুদে শিল্পীর নাম সুপ্তা মণ্ডল। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সে। তার বাবার নাম মীরলাল মৃন্যাল মণ্ডল ও মায়ের নাম সুমনা মণ্ডল।কোদণ্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সুপ্তা। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে টিফিন পিরিয়ডে শিক্ষকদের নির্দেশেই গানটি গায় সুপ্তা।আর সে গান রেকর্ড করে রঞ্জন সরকার নামে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ফেসবুকে আপলোড করেন।এর পরই তা ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।জানা গেছে, সুতপার বাবা মীরলাল মৃন্যাল মণ্ডল কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ঘোনা দারুসসুন্নাত সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক।মেয়ের এই প্রতিভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের গলায় সুর ঢেলে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি বেশ আগ্রহী সুতপা। তখন সবেমাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে সে। একদিন মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরে দেখি মোবাইল ফোনে গান শুনে ঠিক সেভাবেই গাইছে সে। গানে যে তার বেশ দখল রয়েছে তা বুঝতে আর বাকি থাকেনি আমার। গানের গলা ভালো দেখে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকে হারমোনিয়াম কিনে দিই। সেটা দিয়েই গানে হাতেখড়ি হয় সুপ্তার।’পরে স্থানীয় শিক্ষক মান্নান স্যারের কাছে গিয়ে সঙ্গীত শাস্ত্রের স্বরলীপি রাগ শেখে সুপ্তা।সুপ্তাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চান মৃন্যাল মণ্ডল।কোদণ্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুষার ইমরান বলেন, ‘শিশু শ্রেণি থেকেই ভালো গান করত সুতপা। প্রথম দিকে স্কুলে গান গেয়ে সবাইকে অবাক করে দেয় সে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে দিয়েই স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়াতাম আমরা। দিন দিন আরও পরিণত হয়ে উঠছে সুপ্তার গলা।’জানা গেছে, শুধু বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানেই নয় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গান গেয়েছে প্রশংসা কুড়িয়েছে সুপ্তা।কথা হয় সুপ্তা মণ্ডলের সঙ্গে। বড় শিল্পী হতে চায় সে বলে জানায় সে।সুপ্তা আরও জানায়, মোবাইল ফোনে শুনে শুনেই মূলত তার গান শেখা। তার প্রিয় শিল্পী লতা মুঙ্গেশকার, আশা ভোসলে, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা।

 

সর্বশেষ সংবাদ