English Version

অবশেষে মুখ খুললেন তাহেরী

নিউজ ডেস্ক:: আমি ১৭ বছর ধরে ওয়াজ করি। ১৭ বছরের ওয়াজের পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্ত শব্দগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হলো, আমার দুঃখ হলো সেখানে আমাকে ধর্ম অবমাননার একটা পর্যায়ে ফেলে দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। ২ অথবা আড়াই ঘন্টা ওয়াজ করলে প্রাসঙ্গিক অনেক কথা আসতে পারে। আমি এটাই বলতে চাই, আমার কথাগুলো ধর্ম এবং কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না। যদি সাংঘর্ষিক হত তাহলে বাস্তবিক অর্থে আদালত আমার কথাগুলোকে ধর্ম অবমাননা মনে করতেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সরাসরি টক-শো অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হুট করে দুই আড়াই ঘন্টার বক্তব্য থেকে কেটে নিয়ে কেউ যদি শুধুমাত্র গানটাকে প্রকাশ করে, আগে কি বলেছি এবং পরে কি বলেছি, সেটা জাতির সামনে তুলে ধরল না; এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এডিটিংয়ের মাধ্যমে আমাকে যাচাই করা যাবেনা, যাচাই করতে হলে সম্পূর্ণ ওয়াজ শুনতে হবে।

তাহেরী বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হলে অনেকেই আমাকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। ফেসবুকে বাজেভাবে লেখালেখি করেছেন। এতে আমাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমার মনে হয়েছে এটা মানহানিকর।’

গত মঙ্গলবার তাহেরীর বিরুদ্ধে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ স ম জগলুল হোসেন। মামলা খারিজ হওয়ার পর এসব কথা বলেন তাহেরী।

তাহেরী বলেন, ‘ওয়াজের ভেতরে যে শব্দ বা বাক্যগুলো আমি ব্যবহার করি সেগুলো ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা নিয়ে আমি আগেই প্রশ্ন রেখেছিলাম। মামলাকারী ইব্রাহিম খলিল হয়তো ইসলাম নিয়ে কিছু জানেনই না। সেজন্য সে মামলা করেছে। অথবা এই মামলা করার পেছনে তাঁ কোনো স্বার্থ ছিল।’

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেন, ‘উনি (ইব্রাহিম খলিল) মামলা করে আমাকে অপদস্ত করেছেন। এটা উনার ঠিক হয়নি। উনার আরো চেঞ্জ হওয়া উচিত। এ রকম স্বাভাবিক একটা বিষয়কে নিয়ে তিনি ইসলামকে ব্যঙ্গ করার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। উনার হয়তো জ্ঞানেরও অভাব আছে। আর তাই আদালত বুঝে মামলাটি খারিজ করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক অবশ্যই এসব নিয়ে জেনে বুঝে রায় দিয়েছেন।’

তাহেরী আরো বলেন, ‘আমি যখন ওয়াজে কথা বলি তখন পরিস্থিতির প্রয়োজনে বলি। এগুলো কখনো খারাপ ভেবে বলি নাই। আমার কথাগুলো যদি কারো খারাপ লেগে থাকে তাহলে আমি আর এসব বলব না। কিন্তু আমাকে অন্যভাবে জানানো যেত। মানুষের মুখ দিয়ে তো ভুল কথা বের হতেই পারে।’

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলার সময় দাখিলকৃত পেনড্রাইভ পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, ‘ভিডিওগুলো ধর্ম-বিষয়ক। এ ছাড়া ভিডিওতে সামাজিক ও ধর্ম-বিষয়ক বক্তব্য রয়েছে। একেক জনের মত প্রকাশের ধরন একেক রকম। এখানে ধর্মীয় অনুভূতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। বক্তব্যে আইন-বহির্ভূত কোনো কিছু পাওয়া যায়নি, তাই মামলাটি সরাসরি খারিজের আদেশ দেওয়া হলো।’

গত রোববার মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেছিলেন, ‘এখন থেকে আর আমি এসব বলব না বা করব না। আমি ভুল করেছি। তা এখন বুঝতে পারছি।’

মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘বিচারক তাহেরীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি সরাসরি খারিজের আদেশ দিয়েছেন। আমি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশনে যাব।’

এর আগে গত রোববার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ স ম জগলুল হোসেনের আদালতে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিন বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। পরে সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ স ম জগলুল হোসেন আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ