English Version

নিজস্ব অনলাইন টিভি ও ফেসবুক পেজ দিয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রোহিঙ্গাদের

নিউজ ডেস্ক:: কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আর খবর আদানপ্রদানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে রয়েছে ইন্টারনেট ও উন্নত প্রযুক্তি। থ্রিজির পাশাপাশি কিছু ক্যাম্পে ব্রডব্যান্ড ও ডিশ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। একাধিক অনলাইন টিভিতে সার্বক্ষণিক রোহিঙ্গাদের খবরও সম্প্রচার করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের রয়েছে ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ। এসব গ্রুপ ও পেজে সার্বক্ষণিক ছবি, ভিডিও এবং লেখা আপলোড করা হচ্ছে। ফলে যে কোনো ঘটনাই মুহূর্তের মধ্যে সব রোহিঙ্গার কানে পৌঁছে যায়।

একটা পোস্ট- কখনও বাংলা তো কখনও বর্মীতে। মুহূর্তে ভাইরাল। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা তাতে নিজস্ব মতামত দিতে শুরু করেছে। ছড়ানো হচ্ছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মাথায় হাত বাংলাদেশ সরকারের।

নিজস্ব অন লাইন নেটওয়ার্ক ও ফেসবুক পেজ দিয়ে দুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাংলা, আরাকানি, বর্মী ভাষায় অবিরাম চলছে এই প্রচার। বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগের আশঙ্কা, এই নেটওয়ার্ক দ্রুত ভাঙতে না পারলে দেশবিরোধী চক্রান্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে দ্রুত।

রিপোর্টে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থাকা শরণার্থী ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কম করেও ৫ লক্ষ এই অন লাইন টিভি সম্প্রচারের দর্শক। অত্যন্ত উন্নতমানের মোবাইল সেট ব্যবহার করে তারা।

রোহিঙ্গা শিবিরেই রয়েছে একাধিক অনলাইন টিভি। সেখান থেকে অনবরত রোহিঙ্গাদের খবর সম্প্রচার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ।

প্রতিটি পোস্ট বাংলা, বর্মীতে লেখা হচ্ছে। সঙ্গে ছবি। রীতিমতো পোক্ত হাতের কাজ বলেই মনে করছে গোয়েন্দা বিভাগ। সেই পোস্ট হু হু করে ভাইরাল হতে শুরু করেছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা তাতে কমেন্ট করছেন, ছড়াচ্ছেন উত্তেজনা।

পরিস্থিতি প্রতিকুল বুঝে বাংলাদেশ সরকারের তরফে রোহিঙ্গা শিবিরের মোবাইল কানেকশনে কোপ পড়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশিদের সিম বেআইনিভাবে বিক্রি করা হয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে। ফলে সরকারি পদক্ষেপ মুখ থুবড়েই পড়ছে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এইরকম চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। ভুয়ো পোস্ট থেকে ছড়িয়ে পড়তে মারাত্মক হামলা। তার জেরে কক্সবাজার, টেকনাফ, চট্টগ্রামবাসী পড়বেন বিপদের মুখে। কারণ বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানে ক্রমে রোহিঙ্গারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে।

এছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলিতে ক্রমশ বাড়ছে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরসা’ ও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পরস্পর যোগাযোগ রাখে।

রিপোর্টে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিবির থেকে বা বাইরে থেকে চলছে অনবরত পোস্ট।

২০১৬ সালে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রিত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। আশ্রয় শিবির চালিয়ে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গদের ফেরত পাঠানোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে মায়ানমারে ফিরতে চায়নি রোহিঙ্গারা সেই উদ্যোগ ভেস্তে গিয়েছে। এদিকে মায়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মরিয়া বাংলাদেশ। এরর জেরে শরণার্থী শিবিরে ছড়িয়েছে ক্ষোভ।

গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখেছেন, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী স্থানীয় বাংলাদেশিদের সিম কে বেআইনিভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিক্রি করেছে। তার পাশাপাশি চলছে নাম ভাঁড়িয়ে রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া। সবমিলে মোট ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫ লক্ষের বেশি মোবাইল পরিষেবা নিয়েছে।

বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইলের টাওয়ার শক্তিশালী থাকায় সীমান্ত পেরিয়েও সেটি বেশি কিছুদূর পর্যন্ত সচল থাকে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে মায়ানমারের দিকেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের অন লাইন টিভি সম্প্রচার।

 

সর্বশেষ সংবাদ