English Version

দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালে প্রতারণা, গোলাপগঞ্জের ইউএনও’র অপসারণ দাবি

দুর্নীতিগ্রস্থ ও শাস্তিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক বহালে গোলপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বেচ্ছাচারিতা ও বেআইনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কালিকৃঞ্চপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী। শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ করেন। তারা মামুনুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছেন।

তারা বলেন, গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিকৃঞ্চপুর এসইএসডি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন মো. শরীফুল্লাহ। এরপরই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলে নিয়মিত না আসাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠে। পাশাপাশি স্কুলটির লেখাপড়ার মানও কমতে থাকে। তার অপকর্মের কারনে স্কুলটির অর্গানাইজিং কমিটি ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই তাকে শোকজ করে। জবাবে শরীফ উল্লাহ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার ও ভবিষ্যতে দুর্ণীতি করবেন না, ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে এমন অঙ্গীকারও করেন। তবে তিনি আবারও যথারীতি দুর্ণীতি শুরু করেন। টাকা আত্মসাত, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি না করা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না হওয়া-ইত্যাদি অনিয়মের কারণে গোলাপগঞ্জের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি ৫৪ হাজার টাকা গড়মিল পায়। এর শাস্তি হিসাবে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অর্গানাইজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, তার এমপিওভুক্তির কাগজপত্র অগ্রসর করা হবেনা। সভায় সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম। তাছাড়া এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি কমিটিকে না জানিয়েই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। অনুমোদন ছাড়া ৬ মাস অনুপস্থিত থাকায় অর্গানাইজিং কমিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলেন তারা বলেন, দুর্ণীতিবাজ শরীফ উল্লাহ বিভিন্ন জনের সাথে আঁতাত করে স্বপদে বহাল হতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। বরং তাকে স্বপদে বহাল করতে তৎপরতা শুরু করেন। গত ৮ জুলাই অর্গানাইজিং কমিটির সভায় শরীফ উল্লাহ উপস্থিত হয়ে আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ৩ মাসের পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। তবে এরপরই তিনি দুর্ণীতিবাজ শরীফ উল্লাহর পক্ষে তৎপরতা শুরু করেন। কয়েকদিন আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার কার্যালয়ে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রেজ্যুলেশন কাটছাট করে শরীফ ঊল্লাহর
এমপিওভুক্তির বিষয়টি অগ্রগামী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আবারও সেটি লিখে তার স্বাক্ষর ও সীল ছাপ্পর দেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা এলাকাবাসী হতবাক। তার আচরণ বেআইনী এবং তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা করছেন। তারা একজন দুর্ণীতিগ্রস্ত প্রধান শিক্ষককে পূণর্বহালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনী কাজের বিচার ও মামুনুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কালিকৃঞ্চপুর এসইএসডি উচ্চ বিদ্যালয় অর্গানাইজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এম কবির উদ্দিন, মো. উবায়দুল হক, মো. আসকর আলী, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. হাছন আলী ও মো. মুক্তার আলী। – বিজ্ঞপ্তি

 

সর্বশেষ সংবাদ