English Version

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সরকারিভাবে নিযুক্ত বিড়াল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ল্যারি – ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী বিড়াল কর্মচারী। মূলতঃ ইঁদুর শিকার করতেই তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে। এটি ব্রিটেনের প্রাচীন ঐতিহ্য হলেও ‘চিফ মাউসার’ পদ সৃষ্টি করে বিড়াল নিয়োগের ঘটনা ‘ল্যারি’র ক্ষেত্রেই প্রথম ঘটে। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাকে নিয়োগ করেন। পোশাকি নাম ‘ল্যারি দ্য ক্যাট’।

তারপর থেকে বদলে যান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নিজের কাজ একইভাবে করে চলেছে ল্যারি। বিপুল জনপ্রিয়তা এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা- এই দুই কারণে তার বিকল্প খোঁজার কথা এখনো ভাবেনি প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

বিগত কয়েক বছরে ছাঁটাই হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু ছাঁটাইয়ের আঁচ ল্যারিকে ছুঁতে পারেনি আজও। স্বাধীনভাবে নিজের কাজ নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকে গম্ভীর স্বভাবের ল্যারি।

ব্রিটেনের ‘চিফ মাউসার’ অর্থাৎ ইঁদুর ধরার কাজে সরকারিভাবে নিযুক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ‘ল্যারি দ্য ক্যাট’। এই ‘ল্যারি দ্য ক্যাট’ এর জন্য নির্ধারণ করা আছে বেতনও। সরকারিভাবে তার জন্য ১০০ পাউন্ড বরাদ্দ থাকে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বরিস জনসন। ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। সেই সময়েই ছাঁটাই হয় অনেকের। বেশ কয়েকজন নতুন কর্মীও নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়েই আশঙ্কা করা হয়েছিল। এবার হয়তো বাদ পড়বে ল্যারিও। কিন্তু সব আশঙ্কা মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে নিজের কাজে একই ভাবে বহাল রয়েছে ল্যারি।

তবে অনেকের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আরামের চাকরিতে ইদানিং একটু কুঁড়ে হয়ে গিয়েছে ল্যারি! অভিযোগ, দিনের বেশির ভাগ সময়টাই শুয়ে-বসে কাটায় সে। ইঁদুরের পেছনে তেমন ছোটাছুটি করা হয় না আজকাল। কিন্তু যে যাই বলুক, ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমের কাছে এখরো সমান জনপ্রিয় ল্যারি।

তবে, সরকারি বাসভবনে ইঁদুর ধরতে বিড়াল নিয়োগ করার প্রথা নতুন নয়। কয়েকশো বছর ধরেই চলে আসছে এই প্রথা। তবে এই পদের আগে কোনও স্বীকৃতি পেত না মার্জারকুল। ২০১১ সালে ব্রিটেনের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ মাউজার পদে ল্যারিকে নিয়োগ করেন। তারপর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ভবন থেকে শোওয়ার ঘরে অবাধ যাতায়াত ল্যারির।

 

সর্বশেষ সংবাদ