English Version

নানা সমস্যা জর্জরিত শমশেরনগরের সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি পদ শূন্য

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত। নি¤œা ল থাকায় প্রতিবছর বন্যার পানিতে বিদ্যালয়টি তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
জানা যায়, ১৯৪০ সালে হাজী আব্দুল মোতালিব চৌধুরীর বাড়ীতে বিদ্যালয় ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে শমশেরনগর ইউপি সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী পিতা হাজী আব্দুল মোতালিব চৌধুরী, চাচা মৃত আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী ও চাচা আব্দুল মছব্বির চৌধুরী ৪৫ শতক ভূমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। পর্যায়ক্রমে গৃহ নির্মাণ করা হয়। এখন রয়েছে পরাতন পাকা ঘর এবং নতুন বিল্ডিং। শিক্ষার মান ও পরিবেশ খুবই ভালো চলছে। শিক্ষকরা নিরলসভাবে শিক্ষা দান করে যাচ্ছেন। কিন্তু চিহ্নিত কিছু সমস্যায় শিক্ষা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। পাশে একটি মাদ্রাসা হওয়াতে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২০০ জন। প্রধান শিক্ষক পদ বিগত ৭/৮ বছর ধরে শূন্য। সহকারি শিক্ষক শূন্য পদ ২ জন। এই বিদ্যালয়ে স্থায়ী ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর ১ জন শিক্ষক অস্থায়ীভাবে রয়েছেন। মোট ৪ জন শিক্ষকের ধারা ২০০ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা নিতে কষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও শমশেরনগর ইউপি সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী জানান, এই বিদ্যালয়টি ভালোভাবে পড়ালেখা চলছে কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের সম্মুখে মাঠ ভরাট প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা করতে পারছেনা। পাশেই রয়েছে জলাশয়। অনেক সময় খেলাধূলার সময় জলাশয়ে পড়ে যায়। এতে করে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। রুহেল আহমদ চৌধুরী টানা ২ বারের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের আশিংক মাঠ ভরাট, বাউন্ডারী ওয়ালসহ বিদ্যালয়ে আসবাপত্র ইত্যাদি কাজ করানো হয়েছে। বর্তমানে জলাশয় ভরাট করা খুবই জরুরি। এছাড়া বিদ্যালয়ে দক্ষিণ পাশে একটি রাস্তা রয়েছে রাস্তা উপর দিয়ে একটি কালভার্ট প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও জনসাধারণের চলাফেরা করতে অত্যন্ত কষ্ট হয় । জীবনে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। নি¤œা ল থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই মাঠে জলাশয় দেখা দেয় এবং বিগত বন্যা বিদ্যালয়ের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার প্রতিটি বিদ্যালয় মেরামতের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা প্রদান করে। কিন্তু সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্ধ আসেনি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয় মেরামতের জন্য বরাদ্ধ প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবে।
সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শূন্য, সহকারি শিক্ষক শূন্য, মাঠ ভরাট, বাউন্ডারি ওয়ালসহ চিহ্নিত কিছু সমস্যা দূর করণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকমন্ডলী।

 

সর্বশেষ সংবাদ