English Version

কলকাতা ডেঙ্গু দমনে যেভাবে সফল!

নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। মহামারীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই রোগ। জ্বরে আক্রান্ত রোগীতে ভরে গেছে হাসপাতালগুলো। বছরের চলতি মাসেই সর্বোচ্চসংখ্যক ৭ হাজার ১শ ১২ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে নারী-পুরুষ ও শিশু।

চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯ হাজার ২শ ৫৬ জনেরও বেশি। ২০১৮ সালে এর সংখ্যা ছিল দশ হাজারের বেশি। এবছর যে হারে এ রোগ ছড়াচ্ছে; ভেঙ্গে যেতে পারে গত বছরের রেকর্ডটি।

সরকারি হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ছয়শর বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি ৩ মিনিটে কোনো না কোনো হাসপাতালে নতুন করে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

বাদ নেই দেশের অন্যান্য অঞ্চল। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলো থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ যেখানে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ভারতের কলকাতা সক্ষম হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার খবরে চিন্তিত কলকাতাও। এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের শহরটির ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ সাহাজ্য করতে চান বাংলাদেশকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ডেঙ্গু বিষয়ে কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। যেখানে অতীন ঘোষ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ কলকাতায় আসেন।

তাদের মধ্যে কেউ যদি ডেঙ্গুর ভাইরাস নিয়ে আসেন, তা থেকে এখানেও রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই বাংলাদেশ চাইলে আমরা যে কোনোভাবে সহায়তা করতে রাজী আছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো পৌরসভা যদি আমাদের কাছে সাহায্য চায়, তাহলে আমরা তাদের গিয়ে হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়ে আসতে পারি- কীভাবে সারাবছর ধরে ডেঙ্গু নিয়্ন্ত্রণের কাজটা করি।’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা শহর কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করে তা নিয়ে তৈরী হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনটি। এটি থেকে জানা যায়, কয়েকবছর ধরেই কলকাতা শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রিত।

অথচ বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ শুরু হলেই তা নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীণ হতে হয়।কলকাতা করপোরেশন সারাবছর ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বহুকর্মী। এবার তারা সয়ংক্রিয়ভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এ কারণে তাদের কার্যক্রমে যোগ হবে ড্রোন।

কলকাতা করপোরেশন সারা বছর ধরে নিবিড় নজরদারি চালায় যাতে কোথাও পানি না জমে থাকে। শহরের প্রতিটি হাসপাতাল নার্সিং হোম বা পরীক্ষাগারে রোগীদের কী কী রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে, কী ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে; প্রতিদিনের হিসাব রাখা হয়। ডেঙ্গু রোগীর খোঁজ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, রয়েছে সে ব্যবস্থাও।

বিবিসি বলছে, একটা সময় ছিল যখন কলকাতা করপোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজ করত, ততদিনে এর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ত শহরের নানা অঞ্চলে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর প্রকোপ বেশি থাকতো। এর সমাধার খুঁজতে তারা পরিকল্পনা তৈরি করে। কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন স্তরে নজরদারি চালিয়ে আজ তারা সফল।

কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, প্রথমত, ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই আমাদের ২০ থেকে ২৫ জন করে কর্মী আছেন, যাদের মধ্যে একদল প্রচারের কাজ চালায়, আর অন্য দল জল জমছে কী না কোথাও, সেটার ওপরে নজর রাখে।

আছে ১৬টি র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম। তাতে ৮ থেকে ১০ জন লোক থাকে সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে, গাড়িও থাকে তাদের কাছে। কোনো জায়গায় ডেঙ্গুর খবর পাওয়া গেলে দ্রুত তারা সেখানে পৌঁছে এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।

তিনি জানান, এখনও অনেক বহুতল বা সরকারী ভবনে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে কর্পোরেশনের নজরদারী কর্মীরা সেগুলোর তালিকা তৈরি করে। পরে ভবনগুলিকে এক রাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাছাড়া পানি পরিস্কারের বিলও আছে,যা বাড়ির বার্ষিক করের বিলের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অতীন ঘোষ বলেন, নজরদারি আরও ভালো করে চালানোর জন্য এবার আকাশে ড্রোন ওড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে করপোরেশন। যেটি থেকে মশার মারার জন্য ওষুধ বা তেল ছিটানো যাবে। তাছাড়া শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়তে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও কলকাতা শহরে ডেঙ্গু যে হয় না, বা তা থেকে যে মৃত্যু হচ্ছে না, তা নয়। শহরের বেশ কয়েকটি নামী হাসপাতাল থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া তথ্যে রোগী মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে কর্পোরেশন ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য লুকিয়ে রাখে। বিভিন্ন মহল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি অডিট টিম ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার গণনা করে। আর এতে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধান্ত দেন, রোগীর ডেঙ্গুতে হয়েছে না কী অন্য কোনো কারণে।

 

সর্বশেষ সংবাদ