English Version

ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

ছাতক সংবাদদাতা : ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি হওয়া লক্ষাধিক মানুষ মঙ্গলবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তবে বন্য কবলিত অধিকাংশ এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছায় খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বানবাসী লোকজন।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বন্যা প্লাবিত গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পানিবন্দি এসব লোকদের মধ্যে অনেকেই খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গো-খাদ্যের অভাবে গবাধিপশু নিয়েও চরম বিপাকে রয়েছেন বানবাসী লোকজন। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ছাতক-দোয়ারা, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া সড়ক যানচলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে শহরের কানাখালি সড়ক, ফকিরটিলা-মাছিমপুর বাজার সড়ক, ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ি-রতনপুর সড়ক, ছনবাড়ি-গাংপাড়-নোয়াকোট সড়ক, কালারুকা ইউনিয়নরে মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, রায়সন্তোষপুর সড়ক, আমেরতল-ধারন সড়ক, পালপুর-খুরমা সড়ক, বোকারভাঙ্গা-সিরাজগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার অনান্য সড়কগুলো এখনা পানির নিচে রয়েছে। ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা কবলিত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরো ২-৩ দিন লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯জুলাই থেকে একসপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া ডাইকি, বটেরখাল ও বোকা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ছাতক-দোয়ারা, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিত তলিয়ে যায়। অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে শহরের সাথে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনাসহ নি¤œাঞ্চলের অনেক বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। ঢলের পানি প্রবেশ করায় অন্তত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নৌপথে ছোট-ছোট নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধসহ প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে লোডিং-আনলোডিং প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি ষ্টোন ক্রাসার মিল, পোল্টি ফার্ম, মৎস্য খামার, সদ্য বপন করা আমন ধানের বীজতলা ও শাক-সবজির বাগানে পানি ঢুকে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

 

সর্বশেষ সংবাদ