English Version

খাবার ও গাড়ি পাঠিয়েও মিশরে ৩ দিনে ভোট পড়ল ৪৪%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে খাবার বিতরণ ও বাসা-বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এরপরেও তিন দিনে ভোট পড়েছে মাত্র ৪৪.৩৩ শতাংশ।আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত আরেক মেয়াদে সিসির ক্ষমতা বাড়াতে এক সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ওপর গণভোটের চিত্র এটি।

মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আল আহরাম জানায়, সোমবার তিন দিনব্যাপী এ গণভোট শেষ হয়। এতে দেশি ও প্রবাসী মিলে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ, যেখানে দেশটির মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটির ওপরে। সে হিসাবে ভোট পড়েছে মাত্র ৪৪.৩৩ শতাংশ।

অবশ্য উপস্থিত ভোটারদের ৮৮.৮৩ শতাংশ সিসির পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সাল পর্যন্ত টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত হলো সিসির। বর্তমান মেয়াদ চার বছর থেকে বেড়ে ছয় হচ্ছে।

মিসরের সংবিধান অনুসারে চার বছর মেয়াদি প্রেসিডেন্ট পদে দুইবারের বেশি কেউ বসতে পারবেন না।কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দেশটির পার্লামেন্ট সিসিকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখতে একটি সংশোধনী প্যাকেজ আনে।

পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হয়, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়েছে। ফলে সিসির বর্তমান মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সে অনুসারে আরেক মেয়াদে তিনি আরও ছয় বছর অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা থাকবেন।

সংবিধানের এ সংশোধন চূড়ান্তভাবে পাস করতে আয়োজন হয় তিন দিনব্যাপী এ গণভোটের।ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, শনিবারে শুরু হওয়া ওই গণভোটে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে ভোটারদের দেওয়া হয় খাবারের কুপন ও গাড়ি সার্ভিস।

ভোট শেষে অনেকের হাতে বিজনেস কার্ডের মতো সেই কুপন দেখা যায়। সেই কুপন দিয়ে ভোটাররা সিসি সমর্থকদের থেকে চাল, তেল, চিনি ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য নেন।ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কুপন হাতে পাশেই আরেকটি ভবনে চলে যাচ্ছেন ভোটাররা। আর তাদের হাতে খাদ্যদ্রব্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন সিসি সমর্থকেরা- এমন দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে ভোটের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগ থেকে সিসির সমর্থকেরা কায়রো এবং অন্যান্য শহরগুলোতে প্রচারণা শুরু করে। সব জায়গায় পোস্টার-ব্যানার ছড়িয়ে দিয়ে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রাজধানীর আশপাশে অর্ধশতাধিক স্পটে গিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণা দেখতে পাননি সাংবাদিকরা। প্রতিপক্ষকে ভীতি প্রদর্শন ও গ্রেপ্তার নির্যাতন চালানোর কারণে কেউ সিসির বিপক্ষে প্রচারণায় নামার সাহস করেনি এমনটাই অভিযোগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর।

 

সর্বশেষ সংবাদ